র‍্যাপিড সফটওয়্যার প্রোটোটাইপিং এর অর্থ হচ্ছে কোন সফটওয়্যার বানানোর পূর্বে খুবই স্বল্প সময়ে তার একটা ধারণাগত ডিজাইন করা যেটা দেখে বোঝা যায় যে মূল প্রোডাক্টটি দেখতে কেমন হবে, সেখানে কী কী কার্যাবলি সম্পাদন করা যাবে এবং সেটি কীভাবে কাজ করবে। সফটওয়্যার প্রোডাক্ট বানানোর পূর্বেই এর প্রোটোটাইপ তৈরি করা বেশ গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সফটওয়্যার প্রোটোটাইপিং যে প্রকিয়ায় কাজ করে তা নিম্নরূপঃ

যেকোন সফটওয়্যার প্রোটোটাইপের তিনটা অংশ থাকে। যথাঃ

  • ভিজুয়াল ডিজাইনঃ ভিজুয়াল ডিজাইনে দেখানো হয় এই সফটওয়্যারটি দেখতে কেমন হবে যেখানে এর আকার আকৃতি, রঙ, ফিচার বা উপাদানের অবস্থান ইত্যাদি ডিজাইন করা হয়।
  • কন্টেন্টঃ সফটওয়্যারে কী কী ফিচার থাকবে, ফিচারগুলোর মধ্যে কী কী উপাদান থাকবে (যেমন, টেক্সক্ট, ইমেজ, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি) তা কন্টেন্টের আয়তাভুক্ত।
  • ইন্টার‌্যাক্টিভিটিঃ সফটওয়্যারটি দ্বারা কীসব কার্যাবলি সম্পাদান করা হবে, ইউজার এটি কীভাবে ব্যবহার করবে (ডিভাইস, ক্লিক, টাচ, নেভিগেশন ইত্যাদি), ব্যবহারের সরলতা-জটিলতা নির্ণয় করা, ফিচারগুলোর নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা হয়।

কোড না লিখে ডিজাইন ভিত্তিক যেসব সফটওয়্যার প্রোটটাইপ করা হয় তা মূলত তিন প্রকারঃ

১। নিম্ন ফিডালিটি প্রোটোটাইপঃ এই টাইপ প্রোটোটাইপে সফটওয়্যারের প্রাথমিক একটি ধারণা ডিজাইন করা হয়। সাধারণত পেন্সিল এবং কাগজ ব্যবহার করে এখানে মূল প্রোডাক্টের কিছু অত্যাবশ্যকীয় উপাদান এবং কার্যাবলি বিবেচনায় নিয়ে এক বা একাধিক অংশের খসড়া ডিজাইন করা হয়। প্রতিটি খসড়া আলাদা আলাদা উপাদান হিসাবে প্রদর্শিত হয়। এই ধরণের প্রোটোটাইপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রোডাক্টের মূল বিষয় এবং কার্যাবলি কী হবে তা ঠিক করা।

ছবির উৎসঃ https://uxdesign.cc/prototyping-an-integral-part-of-every-designers-workflow-1e7bceea48dd

এই প্রোটোটাইপের ভাল দিক হচ্ছে খুব দ্রুত ডিজাইন করা যায় এবং ব্যয় খুবই কম। যেকোন লেভেলের ডিজাইন স্কিল নিয়ে ডিজাইন করা যায়। সাধারণত কোন প্রোডাক্ট বানানোর খুবই প্রাথমিক স্তরে টিমের প্রায় সবাইকে নিয়ে ইনস্ট্যান্ট এই প্রোটোটাইপ করা হয়ে থাকে।

অসুবিধা হচ্ছে, এখানে প্রোডাক্টের সকল কিছু বিবেচনায় না নেওয়ায় প্রোডাক্ট সম্পর্কে শধুমাত্র আংশিক ধারণা পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট করার সময় বিভিন্ন বিষয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার আশংকা থেকে যায়। সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে ইউজার এই স্টেজে ইন্টারেক্ট করতে পারে না, পেপার-পেন্সিল ভিত্তিক ডিজাইন হওয়ার কারনে ডিজাইন পরিবর্তন করতে নতুন করে ডিজাইন করতে হয় এবং প্রোডাক্ট ফাংশনালিটি টেস্ট করার সুযোগ থাকে না।

সাধারণত পেন্সিল এবং কাগজ ব্যবহার করে নিম্ন ফিডালিটি প্রোটোটাইপ ডিজাইন করা যায়। ডিজিটাল টুল দিয়েও কেউ কেউ করে থাকেন।

২। মধ্যম ফিডালিটি প্রোটোটাইপঃ এই ধরনের প্রোটোটাইপ ডিজিটাল টুল (গ্রাফিক্স ডিজাইন টুল) দিয়ে করা হয় যেখানে প্রোডাক্টের প্রায় সকল কিছুই বিবেচনায় আনা হয় এবং সঠিক আকার, আকৃতি, পরিমাপ মেনে ডিজাইন করা হয়। যেমন, স্ক্রিন সাইজ কতটুকু হবে, বাটন কোথায় বসবে, একটি পেজে কী কী উপাদান থাকবে ইত্যাদি নির্দিষ্ট করা হয়।

ছবির উৎসঃ https://uxdesign.cc/prototyping-an-integral-part-of-every-designers-workflow-1e7bceea48dd

এই প্রোটোটাইপের ভাল দিক হচ্ছে একটা প্রোডাক্টের প্রায় সব কিছুই এই ডিজাইনে ফুটে ওঠে। এতে করে শেষমেষ প্রোডাক্টটি কীরকম হবে তা ভিজুয়ালাইজ করা যায়। যেকোন পর্যায়ে ইচ্ছামত ডিজাইন পরিমার্জন করার সুযোগ থাকে।

অসুবিধা হচ্ছে এই ডিজাইন যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ সকল উপাদান সঠিক পরিমাপে, আকার-আকৃতিতে, রঙে এবং অবস্থানে ডিজাইন করতে হয়। এই প্রোটোটাইপেও ইউজার ইন্টারেক্ট করতে পারে না। তবে এই প্রোটোটাইপে বেসিক ডিজাইন টেস্ট করা সম্ভব হয়।

যেকোন ডিজিটাল ডিজাইন টুল যেমন Microsoft Power Point, Adobe Photoshop, Sketch, Adobe Illustrator,  draw.io ইত্যাদি ব্যবহার করে মধ্যম ফিডালিটি প্রোটোটাইপ করা যায়।

৩। উচ্চ ফিডালিটি প্রোটোটাইপঃ সাধারণত মধ্যম ফিডালিটির প্রোটোটাইপে নিখুঁত পরিমার্জন, রঙ সন্নিবেশন এবং ইন্টার‍্যাকশন যোগ করে উচ্চ ফিডালিটি সম্পন্ন প্রোটোটাইপে উন্নীত করা হয়। সবশেষে একটা সফটওয়্যার ঠিক যেরকম হবে অর্থাৎ যেটা ইউজার সরাসরি ব্যবহার করবে, এই ধরণের প্রোটোটাইপে ঠিক সেই রকমভাবে ডিজাইন করা হয়। এখানে, অনেক নিখুঁতভাবে সব বিষয় বিবেচনায় আনা হয়। তবে উচ্চ ফিডালিটির প্রধান শর্ত হচ্ছে ইন্টার‌্যাক্টিভিটি। অর্থাৎ ইউজার রিয়েল প্রোডাক্টে যেভাবে ইন্টারেক্ট করবে এই ধরণের প্রোটোটাইপে সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ মেন্যু নির্বাচন করা, এক পেজ থেকে অন্য পেইজে যাওয়া, বাটন ক্লিক করলে তার ফলাফল দেখানো ইত্যাদি সকল ইন্টার‍্যাকশন থাকতে হবে। প্রকৃতপক্ষে উচ্চ ফিডালিটি প্রোটোটাইপ দেখতে এবং ব্যবহার করতে ঠিক যেন রিয়েল প্রোডাক্টের মত অভিজ্ঞতা হবে।

ছবির উৎসঃ https://uxdesign.cc/prototyping-an-integral-part-of-every-designers-workflow-1e7bceea48dd

এই প্রোটোটাইপের সুবিধা হচ্ছে একটি প্রোডাক্টের পরিপূর্ন ধারণা এবং ইন্টার‍্যাকশন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রোডাক্ট ডেভেলপ করার সময় কোন জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। ইউজার, ডেভেলপার এবং স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেওয়ার জন্য এই প্রোটোটাইপ খুবই উপকারি। অসুবিধা হচ্ছে, ডিজাইন করতে সময় লাগে এবং দক্ষ প্রোডাক্ট ডিজাইনার তথা বিশেষ ডিজাইন স্কিল প্রয়োজন হয়।

উচ্চ ফিডালিটি প্রোটোটাইপ ডিজাইন করার জন্য বিশেষায়িত টুল দরকার হয়। সেরকম কিছু পরিচিত এবং ভাল মানের প্রোটোটাইপ টুল হলঃ  Adobe InDesign, Adobe XD, InVision, Proto.io, UXPin, MockPlus.

এছাড়াও কোডভিত্তিক যেসব প্রোটোটাইপও করা যায়। সেক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর স্কিল থাকা জরুরী। এই ধরণের প্রোটোটাইপে মূল প্রোডাক্টের সকল ফিচারগুলোকে কতকগুলো অংশে ভাগ করে নেওয়া হয় এবং অত্যাবশ্যকীয় উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর অত্যাবশ্যকীয় উপাদান গুলোর উপর ভিত্তি করে কম্পিটার প্রোগামিং ব্যবহার করে মূল প্রোডাক্টের একটা বেসিক কার্যকারিতা সম্পন্ন ভার্সন তৈরি করা হয় যা থেকে থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে পরবর্তী ধাপ গুলো শেষ হলে পূর্নাঙ্গ প্রোডাক্টটি কেমন হবে। এই কোডভিত্তিক প্রোটোটাইপ করার জন্য Framer এবং Facebook Origami বেশ পরিচিত।

ছবির উৎসঃ Framer