একটা সময় পর্যন্ত যখন সফটওয়্যার প্রোডাক্ট বানানো হত, তখন ডিজাইনারের ধারণা এবং ইচ্ছাকে কেন্দ্র করে একটা ডিজাইন দাঁড় করানো হত। কারণ তখন পর্যন্ত টার্গেট কাস্টমারের চাহিদা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং সুবিধা-অসুবিধা খুব বেশি জানার সুযোগ ছিল না। থাকলেও কম পরিসরে ছিল। কিন্তু বর্তমানে সফটওয়্যার প্রোডাক্ট ডিজাইন এর কথা যদি চিন্তা করি তাহলে দেখা যাবে যে প্রোডাক্ট ডিজাইনের পূর্বে টার্গেট কাস্টমারের একটা বড় স্যাম্পল নিয়ে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চাহিদা, সুবিধা-অসুবিধা জানা সম্ভব। আমাদের এই যুগের ডিজিটাল মিডিয়া এবং টুলগুলো এই লেভেলে উন্নত হয়েছে যে এগুলো ব্যবহার করে ইউজার রিসার্স এবং এনালাইসিস করে একটা সারাংশ কিংবা প্যাটার্ন বের করা সম্ভব। আরও ভাল করে খেয়াল করে থাকলে আমরা দেখতে পারি যে ইউজারের এইসব ডাটা কালেক্ট করার জন্য বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমাদের নতুন করে কিছুই করতে হয় না। তথ্য-প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে এবং সারা বিশ্বের মানুষ যেভাবে ডিজিটাল প্রোডাক্টের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাতে আমাদের টার্গেট কাস্টমারের ডাটা কোন না কোন মিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। এসব থেকে আমরা বলতে পারি, বর্তমানে প্রোডাক্ট ডিজাইন শুধুমাত্র ডিজাইনারের মনের ইমাজিনেশানের উপর নির্ভর করে থাকে না।

আমি বলছি না, ডিজাইনারের ক্রিয়েটিভ থিঙ্কিং বড় কোন কাজে লাগে না, বরং আমি বলছি প্রোডাক্ট ডিজাইনের জন্য ক্রিয়েটিভ থিঙ্কিং যেমন বড় ভূমিকা রাখে তেমনি ডিজাইনের এই থিঙ্কিং কে সঠিকভাবে একটি ইকেক্টিভ আউটকামের দিকে নিয়ে যেতে আমাদের হাতে বর্তমানে অনেক নির্ভরযোগ্য কিছু গাইডলাইন এবং তথ্য-উপাত্ত থাকে। আর আমরা জানি যে সায়েন্স হচ্ছে তাই, যা তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে যুক্তি-তর্ক করে, পরীক্ষণলব্ধ ফলাফলে বিশ্বাস করে এবং ক্রমাগত অবস্থা এবং ধারণার উন্নতি সাধন করে।

এখন আর্ট এবং সায়েন্সের মৌলিক ধারণাগত এবং উদ্দেশ্যগত পার্থক্য উল্লেখ করে বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। আর্ট আমাদের নতুন আঙ্গিকে নতুন বিষয় নিয়ে আরও ভাবতে বলে। অজানা রহস্যকে জানার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। ডিজাইন ইউজারকে জটিল ও অজানা বিষয়কে সহজ করে উন্মোচন করে দেই। আর্ট হচ্ছে একজন শিল্পীর ভিতরের নিজস্ব চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। তার নিজের মত করে, তার নিজের জন্য। আর্টের শিল্পীর নিজের স্বকীয়তার ধারণা বয়ে নিয়ে যায়। অন্য দিকে ডিজাইন হচ্ছে একজন ইউজারের জন্য।

আর্ট চিন্তার জটিলতা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু, ডিজাইন ইউজারের কোন একটি বিষয় নিয়ে কম চিন্তা করার সুযোগ করে দেয়, ব্যবহার সহজ করে দেয়। ডিজাইন হচ্ছে ইউজারের ব্যবহারের জন্য, ইউজারের সুবিধা-অসুবিধা, ভাল-লাগা খারাপ লাগা ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে। ডিজাইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউজারের উদ্দেশ্যকে পূরণ করা।

আর্ট শুধুই ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশ করে। কিন্তু একটি ভাল ডিজাইন ডিজাইনারের ক্রেটিভিটিও যেমন প্রকাশ করে তেমনি উদ্দেশ্য পূরণ করতে সহায়তাও করে। অর্থাৎ  আর্ট শুধুমাত্র আর্টিস্টের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করে মাত্র। অন্যদিকে ডিজাইন কোন একটি সমস্যা সমাধান করে কিংবা বর্তমান সমাধানের উন্নতি সাধন করা।

সফটওয়্যার বানানো হয় ইউজারের কোন একটি সমস্যা সমাধান করার জন্য, কিংবা কোন কাজকে সহজভাবে সম্পাদান করার জন্য, কিংবা ইউজারকে অন্য কোন দিক দিয়ে সুবিধা প্রদান করার জন্য। সুতরাং সফটওয়্যার ডিজাইন ব্যাপারটা মূলত ইউজার কেন্দ্রিক। ইউজারের কোন উদ্দেশ্য সাধন করা যার মূল ফাংশন। আর উপরের ধারণা থেকে আমরা এটা বুঝতে পারি যে ইউজারের কোন একটি উদ্দেশ্যকে সাধন করাই হচ্ছে ডিজাইনের সংজ্ঞা। তাহলে দেখা যাচ্ছে বর্তমানে সফটওয়্যার প্রোডাক্ট ডিজাইন আসলে আর্ট না বরং অনেকাংশেই সায়েন্স। তবে যদি আর্ট আর সায়েন্স যৌথ ভাবে প্রয়োগ হলে তখনই প্রোডাক্ট হয়ে উঠবে একটি অসাধারণ কিছু!